Home » কম্পিউটার অনুচ্ছেদ || কম্পিউটার রচনা

কম্পিউটার অনুচ্ছেদ || কম্পিউটার রচনা

by Susmi
0 comment

বর্তমান যুগ আধুনিক প্রযুক্তির যুগ। আর আধুনিক প্রযুক্তির গুরু বলা যায় কম্পিউটারকে। নিখুঁত গণনা থেকে শুরু করে জটিল অস্ত্রোপচার সবক্ষেত্রেই কম্পিউটারের রয়েছে অনন্য অবদান। এখন অফিস-আদালতসহ দৈনন্দিন জীবনের নিত্য প্রয়োজনীয় উপকরণে পরিণত হয়েছে এই কম্পিউটার। তাইতো কম্পিউটার সম্পর্কে বিভিন্ন পরীক্ষায় এসে থাকে রচনা বা অনুচ্ছেদ হিসেবে। তাই আজকের লেখায় এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সম্পর্কে তুলে ধরবো। এই লেখাটি কম্পিউটার অনুচ্ছেদ বা কম্পিউটার রচনা দুটো প্রশ্নের ক্ষেত্রেই ব্যবহার করতে পারবে। তাই দেরি না করে এটি শিখে নাও।

আরও পড়ুন:

আমার জীবনের লক্ষ্য অনুচ্ছেদ || আমার জীবনের লক্ষ্য রচনা Class 5, 6, 7

নৌকা ভ্রমণ অনুচ্ছেদ | নৌকা ভ্রমণ রচনা

একটি শীতের সকাল রচনা || একটি শীতের সকাল অনুচ্ছেদ

 

কম্পিউটার অনুচ্ছেদ/রচনা

ভূমিকা:

আধুনিক বিজ্ঞানের বিস্ময়কর আবিষ্কার হলো কম্পিউটার। ‘কম্পিউটার’ শব্দটি ইংরেজি শব্দ। এর অর্থ হলো গণনাযন্ত্র। কম্পিউটার যোগ-বিয়োগ, গুণ-ভাগ ইত্যাদি সবধরনের অঙ্ক কষতে পারদর্শী। কিন্তু এর কাজ শুধু গণনা কাজেই সীমাবদ্ধ নয়। তথ্য-উপাত্তের বিশ্লেষণ ও তুলনা করা এবং সিদ্ধান্ত দেওয়ার বিস্ময়কর ক্ষমতা আছে এ যন্ত্রটির। কাজের গতি, বিশুদ্ধতা ও নির্ভরশীলতার দিক থেকে কম্পিউটারের ক্ষমতা মানুষের চেয়ে অনেক বেশি ও অনেক উন্নত। তাই বিশ শতকের শেষপ্রান্তে কম্পিউটার ঘরে, অফিসে, ব্যাংকে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, বিমানে, পত্রিকায়, কারখানায় ইত্যাদি প্রায় সর্বত্র বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।

কম্পিউটারের আবিষ্কার:

পুরাতন কম্পিউটার

পুরাতন কম্পিউটার

আধুনিক কম্পিউটারের জনক ব্রিটিশ গণিতবিদ চার্লস ব্যাবেজ। পাঁচটি অংশে বিভক্ত আধুনিক কম্পিউটারের গঠনকৌশল আবিষ্কারের কৃতিত্বও তার। ১৯৫২ সালে আমেরিকার বিজ্ঞানী জন ডন নিউম্যানের পরিকল্পনা মতে ইলেক্ট্রনিক অটোমেটিক ক্যালকুলেটর আবিষ্কৃত হয়। ১৯৫৪ সাল থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত কম্পিউটার তৈরির কাজ ধাপে ধাপে এগিয়ে চলে।

গঠন ও শ্রেণিবিভাগ:

কম্পিউটারের গঠনরীতির প্রতি লক্ষ করলে এর প্রধান দুটি দিক আমাদের নজরে পড়ে। এর একটি হলো যান্ত্রিক সরঞ্জাম এবং অপরটি হলো প্রোগ্রাম সরঞ্জাম। কম্পিউটার অনুচ্ছেদ কম্পিউটারের যন্ত্রপাতির সাধারণ নাম ‘হার্ডওয়্যার’। যান্ত্রিক সরঞ্জামের আওতায় আসে তথ্য সংরক্ষণের স্মৃতি, অভ্যন্তরীণ ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার জন্য ব্যবহৃত বহির্মুখ অংশ। কম্পিউটারকে প্রদের নির্দেশাবলির নাম ‘প্রোগ্রাম’। প্রোগ্রাম ইত্যাদিকে বলা হয় ‘সফটওয়্যার’। কাজের ধরন বা পদ্ধতি অনুসারে কম্পিউটার দু ধরনের ডিজিটাল ও এনালগ। কাজের গতি এবং গঠন-প্রকৃতি অনুসারে কম্পিউটারকে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করা যায়। যেমন: সুপার কম্পিউটার, মেইনফ্রেম কম্পিউটার, মিনি কম্পিউটার ও মাইক্রো কম্পিউটার ।

কম্পিউটারের ব্যবহার:

কম্পিউটার মানবজীবনের নানা ক্ষেত্রে দিনদিন খুলে দিচ্ছে নিত্যনতুন দিগন্ত। কম্পিউটার শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যের হিসাব-নিকাশই কষে না, নানা কাজে কম্পিউটারের রয়েছে ব্যাপক ব্যবহার। বহু মানুষের কাজ সে একাই করে; করে নির্ভুলভাবে এবং বলতে গেলে চোখের পলকে। কম্পিউটারের সাহায্যে জটিল হিসাব সহজেই নিরূপণ করা হচ্ছে। সর্বাধুনিক কল-কারখানা ও পারমাণবিক চুল্লি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে কম্পিউটারের সাহায্যে। চিকিৎসা ক্ষেত্রে কম্পিউটার সূচনা করেছে নতুন যুগের। এর সাহায্যে রোগ নিরূপণে খুলে গেছে বিস্ময়কর ও অভাবনীয় দিক-দিগন্ত। তা ছাড়া বহুতল ভবন, বিমান, ডুবোজাহাজসহ বড় বড় কাজের জটিল নকশা কম্পিউটারের মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে। কম্পিউটার রচনা

বড় বড় শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করছে কম্পিউটার। বিমান ও রেলের যোগাযোগব্যবস্থা সংরক্ষণ ও টিকিট বিক্রিতেও তা তৎপর। কম্পিউটারের সাহায্যে বর্তমানে বই-পুস্তক ও পত্র-পত্রিকা ইত্যাদির কম্পোজ ও মুদ্রণের কাজ নির্ভুল এবং দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, নৈর্ব্যক্তিক উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও ফলাফল তৈরির কাজে কম্পিউটার পালন করছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। কম্পিউটার খেলার জগতেও অসামান্য চৌকস। কম্পিউটারে দাবাসহ নানারকম খেলা খেলা যায়। তার মধ্যে রয়েছে নানারকম ভিডিও গেমস। সেগুলো ইতোমধ্যেই বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এসবের মধ্যে রয়েছে : কার গেমস, যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা, ভিনগ্রহীদের মোকাবেলা, জলে-জঙ্গলে শিকার এবং এমনি আরও কত কী। রয়েছে শিক্ষামূলক নানা তাক লাগানো খেলা। খেলার মাধ্যমে টাইপ শেখার সুযোগও এনে দিয়েছে কম্পিউটার।

কম্পিউটারে চলচ্চিত্র দেখা যায়, গান শোনা যায়, ছবি স্ক্যানিং করে সংরক্ষণ করা যায়। কম্পিউটারের সাহায্যে ইন্টারনেটের মাধ্যমে দূর-দূরান্তে যোগাযোগ করা যায় ই-মেইলের মাধ্যমে; পড়া যায় দেশবিদেশের পত্রপত্রিকা; সংগ্রহ করা যায় যে-কোনো বিষয়ের তথ্য। সেখানে নানা তথ্য সংরক্ষণও করা যায়। শিক্ষাক্ষেত্রেও কম্পিউটারের অবদান অনেক। কম্পিউটারের মাধ্যমে বর্ণপরিচয় থেকে শুরু করে ইতিহাস, ভূগোল, বিজ্ঞান, গণিত সবই শেখা যায়। কম্পিউটার অনুচ্ছেদ

কম্পিউটার ও বেকার সমস্যা:

কম্পিউটার মানুষের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে অনেক কাজ। বহু লোকের কাজ একা করার ফলে কলকারখানাসহ বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে বসানো হয়েছে কম্পিউটার-চালিত স্বয়ংক্রিয় বা অটোমেটিক ব্যবস্থা। এর ফলে নিয়োগ কমছে, বেকারত্ব বাড়ছে। তাই আমাদের দেশের মতো জনবহুল ও উন্নয়নশীল দেশে অর্থনৈতিক সাশ্রয় ও বহুমুখী কর্মসংস্থানের দিক বিবেচনায় রেখে কম্পিউটার ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া দরকার। বহুমুখী কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কম্পিউটার শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে যে এই সমস্যা সমাধান করা যায় সেই বিষয়টি ভেবে দেখা দরকার।

উপসংহার:

কম্পিউটার আধুনিক বিজ্ঞানের এক বিস্ময়কর উদ্ভাবন। তা মানুষকে বেকার করলেও তার বিস্ময়কর কার্যক্ষমতা মানুষের মনকে জয় করেছে। আমাদের দেশও তাই কম্পিউটারকে স্বাগত জানিয়েছে। সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন অধিকাংশ মানুষ কম্পিউটারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। আমাদের দেশেও কম্পিউটারের প্রতি মানুষের আগ্রহ দিনদিন বেড়ে চলেছে। মানুষ রুমেই হয়ে পড়ছে কম্পিউটারনির্ভর।

তো কেমন লেগেছে কম্পিউটার অনুচ্ছেদ বা রচনা লেখাটি? অবশ্যই কমেন্টে জানাবে। এ ধরনের আরও লেখা পেতে ব্লগটির সাথে থাকবে।

Related Posts