Home » বিভিন্ন প্রকার প্রশিক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা কর
বিভিন্ন প্রকার প্রশিক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা

বিভিন্ন প্রকার প্রশিক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা কর

by Susmi
0 comment

বিভিন্ন প্রকার প্রশিক্ষণ পদ্ধতি

প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শ্রমিক কর্মীদের প্রশিক্ষিত করে তোলার জন্য সংগঠনের প্রকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ পদ্ধতি চালু রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের কাজের প্রকৃতি, ক্ষেত্র ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকে। বাংলাদেশে শ্রমিক কর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য সাধারণভাবে দু’ধরনের প্রশিক্ষণ পদ্ধতি অনুসৃত হয়ে থাকে।

ক. কর্মকালীন প্রশিক্ষণ (On the job training)

কর্মী কার্যে নিযুক্ত হয়ে বা কার্য চলাকালীন অবস্থায় নির্দেশক বা বসের অধীনে থেকে বাস্তবে হাতে কলমে কাজের মাধ্যমে যে দক্ষতা অর্জন করে তাকে কর্মকালীন প্রশিক্ষণ বলে। সাধারণত নতুন কর্মী কাজে যোগদান করলে তাদেরকে এ ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

খ. কর্ম বহির্ভূত প্রশিক্ষণ (Off-the job training)

যখন প্রতিষ্ঠানের বাইরে ভিন্ন পরিবেশে কর্মীদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় তখন তাকে কর্ম বহির্ভূত প্রশিক্ষণ বলে।

এ দু’ধরনের প্রশিক্ষণের জন্য বহুবিধ পদ্ধতি চালু রয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পদ্ধতি সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো-

১. পদ পরিবর্তন (Job Rotation)

এ ব্যবস্থায় একজন কর্মীকে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদে পর্যায়ক্রমে কাজ করতে দেয়া হয়। এর ফলে প্রশিক্ষণার্থী বিভিন্ন পদের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজগুলো ভালোভাবে বুঝে নিতে পারে এবং প্রতিষ্ঠান সম্পর্কেও তাদের ধারণা সুস্পষ্ট হয়।

২. শিক্ষানবিশ পদ্ধতি (Apprenticeship)

এ পদ্ধতিতে প্রশিক্ষক বা তত্ত্বাবধায়কের অধীনে কয়েকজন কর্মীকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। প্রশিক্ষক বক্তৃতা ও হাতে কলমে কার্য সম্পাদন কৌশল দেখিয়ে শিক্ষানবিশকে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। শিক্ষানবিশ হিসেবে প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর প্রশিক্ষণার্থীকে স্থায়ী নিয়োগ দান করা হয়।

আরও পড়ুন:   

প্রশিক্ষণ কি বা কাকে বলে? প্রশিক্ষণের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা আলোচনা কর

৩. কোচিং পদ্ধতি (Coaching)

এ পদ্ধতিতে প্রশিক্ষক বা কোচ এর অধীনে কয়েকজন কর্মীকে নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়। কোচ তাঁর অধীনস্থ প্রশিক্ষণার্থীদেরকে কাজের প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি সম্পর্কে শিক্ষা দিয়ে থাকেন। প্রয়োজনবোধে তিনি কর্মীদের অতি নিকটে অবস্থান করে সূক্ষভাবে কার্য পদ্ধতি অর্থাৎ কোন কাজ কিভাবে সম্পাদন করতে হবে তা শিখিয়ে দেন। কর্মীদের ব্যবহারিক জ্ঞানদানের জন্য এ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।

৪. বক্তৃতা পদ্ধতি (Lecture Method)

কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেয়ার আরেকটি পদ্ধতি হলো বক্তৃতা পদ্ধতি। এতে শ্রেণীকক্ষে কর্মীদের বসিয়ে প্রশিক্ষক নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর বক্তব্য রাখেন। প্রশিক্ষণার্থীরা বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা লাভ করতে পারে।

৫. অভিনয়মূলক প্রশিক্ষণ (Role Playing)

এ পদ্ধতিতে কর্মীগণকে অভিনয়ের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে সাধারণত কয়েকজন কর্মী একটি কক্ষে একত্রিত হয়। তাদের মধ্য থেকে ২/৩ জন একটি বিশেষ সমস্যায় ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকায় অভিনয় করে। এতে অন্যরাও প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা লাভের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের সুযোগ পায়।

৬. কেস পদ্ধতি বা ঘটনা পদ্ধতি (Case Method)

এ পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে একটা কল্পিত সমস্যা সম্বলিত কতকগুলো ঘটনা প্রশিক্ষণার্থীদের সামনে তুলে ধরা হয়। তারা সমস্যার প্রকৃতি অনুধাবন করে সমস্যাটি যথাযথভাবে বিশ্লেষণ করে এবং সমাধানের বিভিন্ন উপায় বের করে নিজ নিজ সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ করে থাকে।

৭. আলোচনা পদ্ধতি (Discussion Method)

এ পদ্ধতিতে সমস্যা সমাধানে বাস্তব ব্যবস্থা গ্রহণের উপর ‍গুরুত্ব দেয়া হয়। আলোচনায় অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করে কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য এ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। এতে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করার জন্য প্রশিক্ষণার্থীরা অধিবেশনে মিলিত হন। অধিবেশনে বিভিন্ন সমস্যার উপর আলোচনা করা হয়। তারা বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিয়ে সমস্যার উৎকৃষ্ট সমাধান খুঁজে বের করতে সচেষ্ট হন যাতে প্রশিক্ষণার্থীরা বাস্তব জ্ঞান লাভ করতে পারে।

৮. প্রবেশন পদ্ধতি (Internship Method)

 এ পদ্ধতি অনুসারে একজন শিক্ষানবিশ ব্যবস্থাপক উচ্চ পর্যায়ের একজন নির্বাহীর অধীনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে শিক্ষানবিশকে হাতে-কলমে শিক্ষা দেয়া হয়। অর্থাৎ তাত্ত্বিকভাবে একজন প্রশিক্ষণার্থী ব্যবস্থাপক যে শিক্ষা লাভ করন এ প্রকার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তা বাস্তবে প্রয়োগ করতে পারেন।

৯. ওয়ার্কশপ (Workshop)

তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রদানের ক্ষেত্রে বর্তমানে ওয়ার্কশপ একটি বহুল প্রচলিত প্রশিক্ষণ পদ্ধতি । এ প্রক্রিয়ায় প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে প্রথমে আলোচ্য বিষয় উপস্থাপন করেন। প্রশিক্ষণার্থীরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে আলোচনায় মিলিত হন এবং পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে কিংবা প্রয়োজনে প্রশিক্ষকের সহায়তায় তা সমাধানে সচেষ্ট হন। প্রতিষ্ঠানের নিম্নস্তরের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দানের ক্ষেত্রে এটি অধিক ব্যবহৃত হয়।

১০. অধিবেশন পদ্ধতি (Conferencce Method)

এ পদ্ধতি অনুসারে প্রশিক্ষণার্থীগণ পূর্ব নির্ধারিত বিশেষ বিশেষ বিষয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। এতে নানান প্রশ্ন উপস্থাপন করা হয় এবং অংশগ্রহণকারীরা এরূপ আলোচনার মাধ্যমে সম্ভাব্য সমাধান সম্পর্কে নিজেরাই পন্থা নির্দেশ করে থাকেন এবং তাঁরা স্ব স্ব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করেন। সুপারভাইজার ও মধ্যম পর্যায়ের ব্যবস্থাপকদের প্রশিক্ষণ দানের জন্য এ পদ্ধতি অধিক উপযোগী।

Related Posts