Home » জলবায়ুর নিয়ামক গুলো কি কি?
জলবায়ুর নিয়ামক গুলো কি কি, জলবায়ু নিয়ন্ত্রণকারী নিয়ামক সমূহ,

জলবায়ুর নিয়ামক গুলো কি কি?

by Susmi
0 comment

কোনো স্থানের আবহাওয়ার দীর্ঘদিনের গড় অবস্থাই হলো জলবায়ু। পৃথিবীর সর্বত্র জলবায়ু এক রকম নয়। জলবায়ুর এ তারতম্য কতগুলো নিয়ামক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

জলবায়ুর নিয়ামক

যে সব উপাদান আবহাওয়া এবং জলবায়ুর নিয়ন্ত্রণ ও পরিবর্তন সাধন করে তাদেরকে জলবায়ুর নিয়ামক বলে। নিম্নে জলবায়ুর নিয়ামক সমূহ আলোচনা করা হলো-

১. অক্ষাংশ: বায়ুমণ্ডলের তাদের উৎস সূর্য। অক্ষাংশ অনুযায়ী সর্যকিরণ কোথাও লম্বভাবে আবার কোথাও তীর্যকভাবে পতিত হয়। নিরক্ষরেখায় সূর্যরশ্মি সারা বছর প্রায় লম্বভাবে পড়ে এবং দিন রাত্রির দৈর্ঘ্য প্রায় সমান হয়। তাই নিরক্ষীয় অঞ্চলে অধিক উষ্ণতা বিরাজ করে।

আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে পার্থক্য এবং জলবায়ুর উপাদান গুলো কি কি?

২. সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা: সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ভূপৃষ্ঠের উচ্চতাও জলবায়ুকে প্রভাবিত করে। ফলে উচ্চতার ভিত্তিতে বায়ুর তাপমাত্রায় পার্থক্য দেখা যায়। একই অক্ষাংশে অবস্থিত বিভিন্ন স্থানের উচ্চতানুযায়ী তাপমাত্রার তারতম্য হয়ে থাকে।

৩. জল ও স্থলভাগের অবস্থান: জলভাগ অপেক্ষা স্থলভাগ স্থিতিশীল। তাই জল ও স্থলভাগের অবস্থানজনিত কারণে তাপের ব্যাপক পার্থক্য দেখা যায়। জলভাগের ওপর পতিত সূর্য তাপের একটা অংশ বাষ্পীভবনে ব্যয় হয় কিন্তু স্থলভাগের ওপর পতিত সূর্য তাপের খুব একটা অপচয় হয় না। ফলে জলভাগের চেয়ে স্থলভাগ অপেক্ষাকৃত উষ্ণ থাকে।

৪. পাহাড়-পর্বতের অবস্থান: পাহাড়-পবর্তের অবস্থান জলবায়ুর ওপর প্রভাব বিস্তার করে। পাহাড়-পর্বত কোনো স্থানের তাপ ও বৃষ্টিপাত নিয়ন্ত্রণ করে।

৫. বনভূমির অবস্থান: জলবায়ু নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হলো বনভূমি। গভীর বনাঞ্চলে সূর্যকিরণ প্রবেশ করতে না পারায় স্থলভাগ উত্তপ্ত হয় না বলে জলবায়ু আর্দ্র থাকে।

৬. সমুদ্র থেকে দূরত্ব: সমুদ্রের নিকটবর্তী অঞ্চল সামুদ্রিক আবহাওয়া দ্বারা প্রভাবিত হয়। কারণ জলভাগ অপেক্ষা সস্থলভাগ দ্রুত উষ্ণ ও শীতল হয়। পক্ষান্তরে, সমুদ্র থেকে দূরবর্তী অঞ্চলের জলবায়ু চরমভাবাপন্ন হয় অর্থাৎ গ্রীষ্মে অধিক গরম এবং শীতকালে ব্যাপক শীত পড়ে।

৭. সমুদ্র স্রোত: কোনো দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ুর ওপর সমুদ্র স্রোতের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। শীতল স্রোতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু শীতল এবং উষ্ণ স্রোতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু উষ্ণ হয়।

. বায়ুপ্রবাহ: বায়ুপ্রবাহ জলবায়ুকে বহুলাংশে নিয়ন্ত্রণ করে। সমুদ্র হতে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু কোনো এলাকার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলে সে এলাকায় বৃষ্টিপাত হয় এবং উত্তাপ হ্রাস পায়।

৯. বৃষ্টিপাত: বৃষ্টিপাত আবহাওয়া ও জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করে। কোনো স্থানে বৃষ্টিপাত হলে সেখানে উত্তাপ হ্রাস পায়। কিন্তু বৃষ্টিপাত না হলে সেখানকার তাপমাত্রা উত্তপ্ত হয়ে যায়।

১০. ভূমির ঢাল: কোনো স্থানের জলবায়ুর ওপর ঢালের প্রভাব রয়েছে। যে ভূমির ঢাল সূর্যের দিকে থাকে তাতে সূর্যরশ্মি লম্বাভাবে পড়ে। ফলে সে স্থান বেশি উত্তপ্ত হয়। আবার যে ভূমির ঢাল সূর্যের বিপরীতে থাকে, তাতে সূর্যরশ্মি তীর্যকভাবে পড়ে। ফলে সে স্থান বেশি উত্তপ্ত হতে পারে না।

অর্থনৈতিক কার্যাবলি কাকে বলে, কত প্রকার ও কি কি?

১১. জলীয়বাষ্প: জলীয়বাষ্প বায়ুমণ্ডলের তাপ সংরক্ষণে সহায়তা করে। বেশি জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু পৃথিবী থেকে তাপ বিকিরণে বাধার সৃষ্টি করে। বায়ুতে জলীয়বাষ্প বেশি পরিমাণে থাকলে তা দিনে খুব উষ্ণ ও রাতে খুব শীতল হতে পারে না।

১২. দিবাভাগের দৈর্ঘ্য: দিবাভাগে সূর্যের আলোতে ভূপৃষ্ঠ ও বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হয় এবং রাতে তাপ বিকিরণ করে পৃথিবী শীতল হয়। দিন বড় হলে ভূপৃষ্ঠ বেশি উত্তপ্ত হয় এবং ছোট রাতে তাপ বিকিরণের পরিমাণ কম থাকায় বায়ুমণ্ডল ক্রমান্বয়ে উত্তপ্ত হতে থাকে।

১৩. বায়ুর আর্দ্রতা: যে বায়ুতে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি, সে বায়ু জলবায়ুকে অধিক প্রভাবিত করতে পারে। ফলে উক্ত এলাকায় দিনে খুবই গরম পড়ে এবং রাতে খুবই শীত পড়ে।

উপসংহার

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের জলবায়ু বিরাজমান। জলবায়ুর এ বিভিন্নতা বা তারতম্য উপরোক্ত নিয়ামকগুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। বৈচিত্র্যময় জলবায়ুর ওপর ভিত্তি করে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের মানব সভ্যতা, সংস্কৃতি, আচার ব্যবহার ও অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ প্রভৃতি গড়ে উঠেছে।

Related Posts