Home » প্রতীত্য সমুৎপাদ নীতি বা কার্যকারণ তত্ত্ব কি? কার্যকারণ তত্ত্ব কত প্রকার ও কি কি?
প্রতীত্য সমুৎপাদ নীতি বা কার্যকারণ তত্ত্ব

প্রতীত্য সমুৎপাদ নীতি বা কার্যকারণ তত্ত্ব কি? কার্যকারণ তত্ত্ব কত প্রকার ও কি কি?

by Susmi
0 comment

প্রতীত্য সমুৎপাদ শব্দের অর্থ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় অভিমুখে গমন করে বলে হেতু বা কারণ সমূহ ‘প্রতীত্য’ এবং সমবায়ে, সম্যকরূপে সহযোগী ধর্মকে উৎপন্ন করে বলে ‘সমুৎপাদ’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। বিজ্ঞানী স্যার আইজেক নিউটন মাধ্যাকর্ষণ শক্তি আবিষ্কারের মত তথাগত সম্যক সম্বুদ্ধ জগতের সত্য স্বরূপ উপলব্দি করে প্রতীত্য সমুৎপাদ নীতির উপদেশ প্রদান করে জন্ম-মৃত্যুর আকারে ভাসমান জীবের জীবন দুঃখ থেকে মুক্তি লাভের উপায় উদ্ভাবন করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে হেতু প্রত্যয় বা কার্যকারণ নীতি। আরো বিশ্ব বিশ্রুত জার্মান বৈজ্ঞানিক মহামতি স্যার আইনস্টাইন মাত্র শত বৎসর পূর্বে তার পূর্ববর্তী ও সমসাময়িক বৈজ্ঞানিকদের জড় বিশ্বের সব আবিষ্কার করে আপেক্ষিক বা সাপেক্ষবাদ নামক এক নতুন তত্ত্ব আবিষ্কার করে বিজ্ঞান জগতে এক আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। তার অনেক শত বছর পূর্বে তথাগত সম্যক সম্বুদ্ধ জড়াজড় বিশ্বের সাপেক্ষবাদ বা প্রতীত্য সমুৎপাদ আবিষ্কার করে জ্ঞানী জগৎকে স্তম্ভিত করে দিয়েছেন। 

প্রতীত্য সমুৎপাদ নীতি বা কার্যকারণ নীতি

প্রতীত্য অর্থ হেতু বা কারণ সহযোগে ‍ধর্মসমূহ উৎপন্ন হওয়া। মহাভিনিষ্ক্রমণের পর থেকে সিদ্ধার্থ গৌতম ছয় বৎসর কঠোর তপস্যা করে আবিষ্কার করেন- প্রতীত্য সমুৎপাদ নীতি বা কার্যকারণ নীতি। তিনি সম্বুদ্ধচিত্তে জড় জগৎ এবং মনোজগতের মধ্যে কোন স্থায়ীভাব বা সত্ত্বা বা আত্মা বলে কিছু দর্শন করলেন না- তিনি দেখলেন কার্য-কারণ-সম্বন্ধযুক্ত কর্মপ্রবাহ। ওটা থাকলে এটা হয়, ওটার উৎপত্তিতে এটার উৎপত্তি হয়; ওটা না থাকলে এটা হয় না, ওটার নিরোধে এটার নিরোধ হয়। হেতুর উৎপত্তিতে ফলের উৎপত্তি, হেতুর নিরোধে ফলের নিরোধ- এটাই প্রতীত্য সমুৎপাদ নীতির মূল সূত্র। জড় জগৎ ও মনোজগৎ এ নীতির দ্বারা পরিশাসিত। এক কথায় বলা যায়- এটা সর্বপ্রকার দুঃখ-উৎপত্তি তত্ত্ব ও দুঃখ-বিমুক্তি তত্ত্ব।

দ্বাদশ অঙ্গ সমন্বিত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত এই কার্যকারণ নীতি। যথা-

১. অবিদ্যা, ২. সংস্কার, ৩. বিজ্ঞান, ৪. নাম-রূপ, ৫. ষড়ায়তন, ৬.স্পর্শ, ৭. বেদনা, ৮. তৃষ্ণা, ৯. উপাদান, ১০. ভব, ১১. জন্ম, ১২. জরা-মরণ।

দ্বাদশ অঙ্গ আলোকে প্রতীত্যসমুৎপাদ বা কার্যকারণ নীতির আলোচনা

১. অবিদ্যা

দুঃখের কারণ নির্ণয় করতে গিয়ে বুদ্ধ প্রথমে অবিদ্যাকে মূল কারণ নির্দেশ করেছেন। অবিদ্যা কোন বিষয়ের যথার্থ স্বভাব জানতে দেয় না এবং বিপরীত বোধের সৃষ্টি করে। অজ্ঞতাই অবিদ্যা। কিসের অজ্ঞতা? রূপ, বেদনা, সংজ্ঞা, সংস্কার, বিজ্ঞান অর্থাৎ পঞ্চ উপাদান স্কন্ধ যে দুঃখময়- তা না জানাই অবিদ্যা। জীবন-দুঃখের কারণ তৃষ্ণা, তৃষ্ণার নিরোধে দুঃখের নিরোধ- এটা না জানা অবিদ্যা। আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ অনুযায়ী জীবন যাপন যে তৃষ্ণা নিরোধের উপায়- এটা না বুঝা অবিদ্যা।

আরও পড়ুন:   চাকমা বৌদ্ধদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবগুলো সম্পর্কে আলোচনা কর

২. সংস্কার

অবিদ্যার কারণে সংস্কারের উৎপত্তি হয়। অবিদ্যাচ্ছন্ন জীবনে যখন কেউ কোন বিষয় চিন্তা করে, বাক্য বলে কিংবা কার্য করে, তখন সে চিন্তা-বাক্য বা কার্য এক নতুন ভাবের সৃষ্টি করে। চিত্তের এ নতুন ভাব বা চেতনাই সংস্কার। এ সংস্কার হল পুনর্জন্ম প্রদানকারী চেতনা। এর অপর নাম কর্ম। বুদ্ধ বলেছেন- “চেতনাহং ভিক্খবে কম্মং বদামি” –হে ভিক্ষুগণ, চেতনাকেই আমি কর্ম বলি। এ কর্মই পুনর্জন্ম উৎপাদন করে। এ কর্ম বা সংস্কার ত্রিবিধ- কুশল সংস্কার, অকুশল সংস্কার, অরূপ সংস্কার বা আনেঞ্জা সংস্কার। যদি কেহ অবিদ্যাকে অকুশল ও বর্জনীয় বলে তার প্রভাব থেকে মুক্ত হতে চেষ্টা করেন অথবা অবিদ্যাকে ক্ষয় করার অভিপ্রায়ে দানাদি পুণ্যকর্ম সম্পাদন করেন, তখন তার কুশল কর্ম বা কুশল সংস্কার উৎপন্ন হয়। অবিদ্যাচ্ছন্ন  চিত্তে যদি কেহ লোভ-দ্বেষ-মোহ মূলক কর্ম-যেমন চুরি, ব্যভিচার, হত্যা ইত্যাদি অকুশল কর্ম করে, তদ্বারা তার অকুশল সংস্কার উৎপন্ন হয়। ভাবনাদি দ্বারা উৎপন্ন চার প্রকার অরূপাবচর কুশল চেতনাই আনেঞ্জা বা মিশ্র সংস্কার। লোভ, দ্বেষ, মোহ প্রভৃতি পঞ্চাশ প্রকার সৎ ও অসৎ মনোবৃত্তিকে সংস্কার বলা হয়।

৩. বিজ্ঞান

সংস্কারের কারণে বিজ্ঞানের উৎপত্তি হয়। চিত্তের সঞ্চিত সংস্কারের প্রচ্ছন্ন শক্তি প্রভাবে যখন রূপের সাথে চক্ষু, শব্দের সাথে শ্রোত্র, গন্ধের সাথে ঘ্রাণ, রসের সাথে জিহ্বা এবং ভাবের সাথে চিত্ত সম্মিলিত হয়, তখন যে অবস্থা বিকাশ লাভ করে- তাহাই বিজ্ঞান। এটা চিত্তের সংস্কারজাত শক্তির ফলাবস্থা বা বিপাক-বিজ্ঞান। এ বিপাক-বিজ্ঞান কোন কারণে সক্রিয় হলে চিত্ত পথে নতুন সংস্কার উৎপন্ন করে। উদ্ভিদ যেমন বীজ ও বৃক্ষ, বৃক্ষ ও বীজ আকারে আবর্তিত হয়ে চলে, জীব-জগতও সংস্কার ও বিজ্ঞান, বিজ্ঞান ও সংস্কারে আবর্তিত হয়ে চলেছে।

৪. নাম-রূপ

বিজ্ঞানের কারণে নামরূপের উৎপত্তি হয়। অকুশল বিপাক বিজ্ঞান (চিত্ত) দুর্গতিতে জন্মগ্রহণ করায় অর্থাৎ নাম-রূপের উৎপত্তি ঘটায়। এখানে নাম বলতে বেদনা, সংজ্ঞা, সংস্কার এবং রূপ বলতে দেহকে বুঝায়। কামাবচর কুশল-বিপাক-চিত্ত কামসুগতিতে অর্থাৎ মনুষ্য ও ছয় দেবলোকে উৎপন্ন করায়। রূপ-বিপাক-চিত্ত রূপলোকে বা ১৬ প্রকার রূপ-ব্রক্ষ্মলোকে জন্মগ্রহণ করায়। অরূপ-বিপাক-চিত্ত বা বিজ্ঞান চার অরূপ লোকে প্রতিসন্ধি করায় বা নামরূপ উৎপন্ন করে।

৫. ষড়ায়তন

নামরূপের কারণে ষড়ায়তনের উৎপত্তি হয়। আয়তন অর্থ স্থান। চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা, কায় ও মন- এগুলোই ষড়ায়তন। মনায়তন বলতে ৮৯ প্রকার চিত্তকে বুঝায়। নাম বলতে বেদনা, সংজ্ঞা, সংস্কার ও বিজ্ঞানকে বুঝায়। রূপ বলতে পৃথিবী, অপ, তেজ, বায়ু –এ চার প্রকার মহাভূত রূপ এবং চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা, কায় ও হৃদয়-বাস্তু –এ ছয় প্রকার বাস্তু রূপসহ জীবিতেন্দ্রিয় ও ওজঃ-এই দ্বাদশ রূপকে নির্দেশ করে। নামের সঙ্গে ষষ্ঠ আয়তন বা মনায়তনের প্রত্যয়। উর্বর ভূমিতে প্রতিষ্ঠিত বন-জঙ্গলের মত।

৬. স্পর্শ

ষড়ায়তনের কারণে স্পর্শ উৎপন্ন হয়। চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা, কায় ও মন –এ ষড়ায়তনের সঙ্গে রূপ, শব্দ, গন্ধ, রস, স্পর্শ ও ভাব –এসব বহিরায়তনের সম্মিলন ঘটলে বিজ্ঞান চিত্তের উৎপত্তি হয়। তখন এ তিনের মিলনে যে স্পর্শের উৎপত্তি হয়- তাহাই চক্ষু সংস্পর্শ, শ্রোত্র-সংস্পর্শ, ঘ্রাণ-সংস্পর্শ, জিহ্বা- সংস্পর্শ, কায়-সংস্পর্শ ও মন-সংস্পর্শ।

৭. বেদনা

স্পর্শের কারণে বেদনার উৎপত্তি হয়। বেদনা বলতে সুখ, দুঃখ ও উপেক্ষা বেদনা বা অনুভূতিকে বুঝায়। এ ক্ষেত্রে দ্বারভেদে বেদনা বা অনুভূতি ছয় প্রকার। যথা- চক্ষু সংস্পর্শ দ্বারা যাহা অনুভূত হয় তাহা চক্ষু সংস্পর্শজ বেদনা। সেরূপ শ্রোত্র সংস্পর্শজ বেদনা, ঘ্রাণ সংস্পর্শজ বেদনা, জিহ্বা সংস্পর্শজ বেদনা, কায় সংস্পর্শজ বেদনা এবং মন সংস্পর্শজ বেদনা।

৮. তৃষ্ণা

বেদনার কারণে তৃষ্ণার উৎপত্তি হয়। চক্ষু সংস্পর্শজ বেদনা থেকে রূপতৃষ্ণা, শ্রোত্র সংস্পর্শজ বেদনা থেকে শব্দতৃষ্ণা, ঘ্রাণ সংস্পর্শজ বেদনা থেকে গন্ধতৃষ্ণা, জিহ্বা সংস্পর্শজ বেদনা থেকে রসতৃষ্ণা, কায় সংস্পর্শজ বেদনা থেকে স্পর্শতৃষ্ণা এবং মন সংস্পর্শজ বেদনা থেকে ভাব-তৃষ্ণা উৎপন্ন হয়। তৃষ্ণা তিন প্রকার- কামতৃষ্ণা, ভবতৃষ্ণা, বিভব তৃষ্ণা। রূপ-শব্দ-গন্ধ-রস ইত্যাদি ছয় বিষয় বা আলম্বনের যেকোনটি উপভোগের যে তৃষ্ণা- তা কামতৃষ্ণা। কামতৃষ্ণা যখন শাশ্বত দৃষ্টির সাথে প্রবর্তিত হয়ে কামলোক, রূপলোক ও অরূপলোকে  জন্মগ্রহণের তৃষ্ণা উৎপন্ন হয়, তখন এটা ভব তৃষ্ণা। আর এ কামতৃষ্ণা যখন উচ্ছেদ দৃষ্টি অর্থাৎ মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে অস্তিত্বের বিলুপ্তি –এ বিশ্বাসের সাথে জড়িত হয় বা প্রবর্তিত হয়, তখন ওটাকে বিভব তৃষ্ণা বলা হয়।

৯. উপাদান

তৃষ্ণার কারণে উপাদানের উৎপত্তি হয়। উপাদান অর্থে তৃষ্ণার বস্তুকে দৃঢ়ভাবে ধারণকে বুঝায়। তৃষ্ণা যখন গাঢ় হয়, তখন তা উপাদানে পরিণত হয় এবং তা অতি সূক্ষ্মরূপে চিত্তে স্থিত থাকে। এ উপাদান অবস্থানভেদে কামউপাদান, দৃষ্ট উপাদান, শীল-ব্রত-পরামর্শ উপাদান ‍ও আত্মাবাদ উপাদান এ চতুর্বিধ আকারে চিত্তকে পরিচালিত করে কর্মে নিয়োজিত করে এবং সেগুলোর ফল উৎপত্তির কারণ হয়।

১০. ভব

উপাদানের কারণে ভবের উৎপত্তি হয়। ভূ-ধাতু থেকে ভব অর্থ হওয়া। উৎপন্ন হওয়া অর্থে ভব। এটা দ্বিবিধ- কর্মভব ও উৎপত্তি ভব। মানুষের কর্মই কর্মভব এবং কর্ম দ্বারা উৎপন্ন স্কন্ধই উৎপত্তিভব। উপাদানই বর্তমান কর্মভব এবং পরজন্মে উৎপত্তি ভবের কারণ হয়। কর্মভব কুশল-অকুশল কর্ম, চেতনা, সংস্কার ইত্যাদি কর্মভব। এটা জীবনের সক্রিয় অংশ।যেমন- অবিদ্যা, সংস্কার, তৃষ্ণা, উপাদানও ভব। উৎপত্তি ভব- এটা জীবনের প্রতিক্রিয়াশীল অংশ। যেমন- বিজ্ঞান, নামরূপ, ষড়ায়তন, স্পর্শ ও বেদনা।

১১. জন্ম

ভবের কারণে জাতি বা জন্ম হয়। জন্ম অর্থে মাতৃজঠরে উৎপত্তিকে বুঝায়। প্রতিসন্ধিক্ষণে রূপ, বেদনা, সংজ্ঞা, সংস্কার ও বিজ্ঞান –এ পঞ্চস্কন্ধের মাতৃগর্ভে উৎপত্তি হয়। কর্ম ভবই প্রতিসন্ধির কারণ বা প্রত্যয়। মনুষ্য ও তির্যক জন্মে সত্ত্বগণ মাতৃজঠরে উৎপন্ন হয়, কিন্তু দেব-ব্রক্ষ্মলোকে বা অপায়ে সত্ত্বগণ স্বয়ং উৎপন্ন হয়। মানুষের ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র, তাদের ভিন্ন ভিন্ন সুখ-দুঃখ প্রাপ্তি থেকে সহজেই বুঝা যায় তা পূর্বজন্মের বিভিন্ন কর্ম বা কর্মভবের ফল। মানুষ এভাবে কর্ম ভব প্রভাবে চার অপায়ে, এক মনুষ্যলোকে, ছয় দেবলোকে, ষোড়শ রূপ ব্রক্ষ্মলোকে সুখ-দুঃখের মধ্য দিয়ে আবর্তন-বিবর্তন করছে। নদীর স্রোতের ন্যায় এ গতি অবিরাম চলছে। এ প্রবাহ কার্য-কারণ-নির্ভর। তাই এটা দুঃখময়, অনিত্য ও অনাত্ম। তাই বলা হয়- যেরূপ বীজ বপন করা হয়, সেরূপ ফলই ফলিত হয়।

১২. জরা-মরণ

জন্মের কারণে জরা, মরণ ইত্যাদির উৎপত্তি হয়। জন্ম হলে মানুষকে জরা, মরণ, শোক, বিলাপ, শারীরিক মানসিক দুঃখ, নৈরাশ্য ইত্যাদি অবশ্যই ভোগ করতে হয়। 

উপসংহার

অবিদ্যার দ্বারা দুঃখরাশি উৎপন্ন হয়ে থাকে। অবিদ্যাকে বিদ্যা উৎপত্তির দ্বারা সম্পূর্ণ নিরুদ্ধ করতে পারলে সংস্কারসমূহ উৎপন্ন হয়না। অর্থাৎ পুনর্জন্মের পথ নিরুদ্ধ হয় এবং সেই সাথে দুঃখের আত্যন্তিক নিবৃত্তি ঘটে। দুঃখের এই ‍উৎপত্তি নিরোধ প্রদর্শনের মাধ্যমে মুক্তি লাভই প্রতীত্য সমুৎপাদ নীতির উদ্দিষ্ট বিষয়। এতে লীলাময়ের লীলা, ইচ্ছাময়ের ইচ্ছা কিংবা দৈব-খেয়ালের কোন রূপ দোহাই নেই। এই নীতি বিশ্বে তথাগত বুদ্ধের এক অপূর্ব অবদান। এই নীতিই বৌদ্ধধর্মকে অন্য ধর্ম থেকে পৃথক করে রেখেছে। এই নীতিতে যাঁরা সামান্যতম জ্ঞান লাভ করেছেন, তাঁরাই অকুণ্ঠচিত্তে স্বীকার করেছেন বৌদ্ধ ধর্মের অতুলনীয় মাহাত্ম্য।

Related Posts